জুলাইয়ে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন বেড়েছে

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন আরো বেড়েছে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন আরো বেড়েছে। যদিও ইরাকের অতিরিক্ত উত্তোলন কমানো ও কুর্দি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা এ প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করে তুলেছে।

রয়টার্সের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জুলাইয়ে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। এটি জুনে দৈনিক উত্তোলিত ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের উত্তোলন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, জুলাইয়ে ওপেক প্লাসভুক্ত আটটি সদস্য দেশ উত্তোলন বাড়ানোর সুযোগ পায়। এর মধ্যে ওপেকের পাঁচ সদস্য আলজেরিয়া, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক ৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর কথা ছিল। তবে এ সময় ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে পাঁচ দেশের প্রকৃত উত্তোলন বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক দেড় লাখ ব্যারেলে।

সংশোধিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ধরা হয়েছে, যা আগের হিসাবের তুলনায় ৫০ হাজার ব্যারেল বেশি। ক্ষতিপূরণ ও কুর্দিস্তানে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার কারণে ইরাক উত্তোলন কমিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দৈনিক এক লাখ ব্যারেল বাড়ালেও দেশটির উত্তোলন এখনো বেঁধে দেয়া কোটার তুলনায় কম।

ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন সূত্র আলাদা তথ্য দিয়েছে। ওপেকের নিজস্ব মাধ্যম ও রয়টার্সের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশগুলো বেঁধে দেয়া কোটার প্রায় সমান তেল উত্তোলন করেছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) বলছে, দেশগুলোর উত্তোলন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি ছিল।

উল্লেখ্য, রয়টার্সের এ সমীক্ষা জ্বালানি তেল সরবরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়। এ সমীক্ষায় এলএসইজি, কেপলারসহ বিভিন্ন সংস্থা ও জ্বালানি তেল কোম্পানি এবং বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়।

এদিকে ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজারের অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধার ও রাশিয়া থেকে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কার কারণে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আরও